
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জাল
সনদপত্রমূলে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া
গেছে।
সরকারি বিধিমতে নিয়োগকালীন চুক্তিপত্রে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক,
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও নুন্যতম দু’জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষর
প্রয়োজন হয়। অথচ প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির স্বাক্ষর ছাড়াই সহকারী শিক্ষিকা
রাশেদা আক্তার নিজ স্বাক্ষর ও অন্য দুজন স্বাক্ষীর স্বাক্ষর সহকারে
চুক্তিপত্র সম্পাদন করে থাকেন।
এ ব্যাপারে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ সত্বেও যাচাই বাছাই ও তদন্ত ছাড়াই কোন
খুঁটির জোরে ওই কর্মচারীকে চাকুরীতে বহাল রেখে পরবর্তীতে তার ১১ মাসের
বেতনভাতাও মঞ্জুর হলো এটাই এখন অভিজ্ঞ মহলের প্রশ্ন। এ নিয়ে শুধু সংশ্লিষ্ট
এলাকায়ই নয়, সমগ্র উপজেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের এরুয়াখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগপ্রাপ্ত এরুয়াখাই গ্রামের আব্দুল জব্বারের
পুত্র হেলাল উদ্দিনের শিক্ষা সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াত থাকায় বিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কোরবান আলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে
দু’দফা অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে
তদন্তের স্বার্থে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কর্তৃক গত বছরের সেপ্টেম্বর ও
অক্টোবর মাসে দু’দফা নোটিশ পাঠালেও আবেদনে সংযুক্ত কাগজপত্রসহ হাজির হয়নি
অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন।
আবেদন পত্রে সংযুক্ত স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন হেলাল-খসরু উচ্চ
বিদ্যালয় কর্তক প্রদত্ত ভূঁয়া সনদপত্রে ও জাল জাতীয় পরিচয়পত্রে তার জন্ম
তারিখ ০১-০১-১৯৮৫ ইং এবং ভোটার আইডি নং- ৯০১৩৩৬১৩০৩৪২০ দেখানো হয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে সুনামগঞ্জ এইচ.এম.পি উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৯৬-৯৭ সেশনে
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৯৯৮ সনে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষাকার
রেজিস্ট্রেশন কালে তার জন্ম তারিখ ০১-০৩-১৯৮২ ইং দেখানো হয়েছে।
অপরদিকে এরুয়াখাই এলাকার ছাপা ভোটার তালিকা অনুযায়ী হেলাল উদ্দিনের
প্রকৃত ভোটার নম্বর হচ্ছে- ৯০২৭২৫৩০৩৪২০ এবং জন্ম তারিখ হচ্ছে ০১-০১-১৯৮২।
0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন